দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক বোঝা লাঘব করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে একটি যুগান্তকারী ও জনবান্ধব সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন বাজেটে কৃষি কাজে ব্যবহৃত সব ধরনের কীটনাশকের ওপর আমদানি পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) এবং অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বিশেষ ছাড়ের কথা ঘোষণা করেন। এটি বর্তমান বিএনপি সরকারের ১৭তম এবং অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমানোর লক্ষ্যে কীটনাশক আমদানির ক্ষেত্রে এতদিন প্রযোজ্য থাকা ৭ দশমিক ৫ (৭.৫) শতাংশ অগ্রিম কর এখন থেকে পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষকদের দোরগোড়ায় সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি উপকরণ পৌঁছে দিতেই এই কর মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, কীটনাশক দেশীয়ভাবে উৎপাদনে রেয়াতি সুবিধা প্রদানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপনে থাকা ৩৬টি কাঁচামাল আমদানির ওপর থেকেও মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পুরোপুরি মওকুফ করা হয়েছে। কেবল কীটনাশকই নয়, কৃষি খাতের সামগ্রিক গতিশীলতা বজায় রাখতে ধান, চাল, গম, আলু, বীজসহ বিভিন্ন মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ কিংবা ১ শতাংশ থেকে একলাফে কমিয়ে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ (০.৫) শতাংশ করার প্রস্তাব এনেছে সরকার। বাজেটে কৃষি ও কৃষকবান্ধব শুল্ক কাঠামোর এই আমূল পরিবর্তন দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং ফসলের উৎপাদন খরচ কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।
মন্তব্য করুন