মধ্যপ্রাচ্যের ওমান উপসাগরে ২৪ জন ভারতীয় নাবিকবাহী একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে আগুন ধরে যায় এবং অন্তত তিনজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ হন। আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন সামরিক পদক্ষেপের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের উপপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক জেসন মিকসকে জরুরি তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল জাজিরা’-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সেন্টকমের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ‘সেত্তেবেল্লো’ নামের ওই পালাউ-পতাকাবাহী জাহাজটিতে তারা ‘নির্ভুল হামলা’ (Precision Strike) চালিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর অভিযোগ, জাহাজটি অবৈধভাবে ইরানি তেল বহন করছিল এবং অঞ্চলটিতে মোতায়েনকৃত মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া দিকনির্দেশনা ও সীমান্ত বিধি মানতে ব্যর্থ হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নজরদারি সংস্থাও নিশ্চিত করেছে যে, হামলার পর ওমানের সোহার বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থানকালে জাহাজটি থেকে প্রথম বিপদ সংকেত পাঠানো হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, ওমান উপসাগরের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া নৌ অবরোধ নিয়ে নতুন আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর এই প্রকাশ্য হামলাকে অনেকেই ওয়াশিংটনের আগ্রাসী নীতি হিসেবে দেখছেন। এই ঘটনা ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে; যা ভূরাজনৈতিক সমীকরণের কারণে ইতোমধ্যে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বৈরী ও সংকটপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
মন্তব্য করুন