
প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভূয়সী প্রশংসা এবং তার ঠিক পরপরই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি গভীর আনুগত্য প্রকাশ—সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন প্রবীণ সংসদ সদস্য তথা তারকা অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি তাঁর দলবদল করা কিংবা তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার সমস্ত গুঞ্জন ও রাজনৈতিক জল্পনা কঠোরভাবে উড়িয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি রাজনৈতিক মহলে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, তৃণমূলের একটি ‘বিক্ষুব্ধ’ গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়েছে, যেখানে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে আসানসোলের সংসদ সদস্য শত্রুঘ্ন সিনহার নামও রয়েছে। এই গুঞ্জনের মাঝেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দীর্ঘতম মেয়াদী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানিয়ে সিনহার একটি পোস্ট জল্পনার আগুন আরও উসকে দিয়েছিল, যেখানে তিনি ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে মোদির সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করেন।
তবে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করা সেই পোস্টে শত্রুঘ্ন সিনহা চতুরতার সাথে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্যাগ করেছিলেন। পোস্টের পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল ঘোলা হতে শুরু করলে, এই অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ব্যক্তিত্ব নিজেই গণমাধ্যমের সামনে বিষয়টি পরিষ্কার করেন এবং সাফ জানিয়ে দেন যে, তিনি কখনোই ‘দিদি’ তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে যাবেন না। সংসদ সদস্য কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরে যোগ দেওয়ার খবরকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য দাবি করে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, তাঁর খারাপ সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরম আশ্রয়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাই দিদির যেকোনো কঠিন সময়ে তিনিও ঢাল হয়ে পাশে থাকবেন। তৃণমূল নেত্রীর বিশেষ অনুরোধ ও জোরাজুরিতেই তিনি আসানসোল থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন উল্লেখ করে সিনহা স্পষ্ট করে দেন যে, তৃণমূলের প্রতি তাঁর আনুগত্য অবিচল রয়েছে।