
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, নিহত ওই তরুণীর নাম হিমার্ষী (২০)। গত শুক্রবার নিহতের প্রেমিক হার্ষিত পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করেন যে, তার প্রেমিকাকে পরিবারের সদস্যরাই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে।
হার্ষিতের দাবি, গত বৃহস্পতিবার রাতে হিমার্ষীর পরিবারের সদস্যরা তাকে হত্যার পর প্রমাণ লুকাতে রাতেই মরদেহ দাহ করে ফেলে, যাতে কেউ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে না পারে যে এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
প্রেমিক হার্ষিত পুলিশকে জানান, গত দেড় বছর ধরে হিমার্ষীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তারা দুজন ভিন্ন জাতের হওয়ায় হিমার্ষীর পরিবার প্রথম থেকেই এই সম্পর্কের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। সম্পর্ক ছিন্ন করতে হিমার্ষীর ওপর প্রতিনিয়ত চাপ প্রয়োগ করা হতো। সম্পর্ক থেকে সরে না আসার কারণেই তাকে প্রাণ হারাতে হলো।
এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার আগে ধারণ করা একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, হিমার্ষী বাড়ি থেকে বের হয়ে একটি দোকানে যান, যেখানে আগে থেকেই তার প্রেমিক হার্ষিত উপস্থিত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর সেখানে হিমার্ষীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে দুজনকেই বেধড়ক মারধর শুরু করেন।
হার্ষিতের অভিযোগের পর পুলিশ দ্রুত তদন্তে নামে এবং শুক্রবার রাতেই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে তরুণীর মা, দুই ভাই এবং দুই চাচা রয়েছেন।
অন্যদিকে, প্রেমিকা নির্মমভাবে হত্যার শিকার হওয়ার পর থেকে প্রেমিক হার্ষিত নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।