
ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নিছক এক গুজব ছিল। গত কয়েকদিন ধরে গুঞ্জন উঠেছিল যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের এক যৌথ বিমান হামলায় তেহরানে নিজ বাসভবনেই নিহত হয়েছেন এই প্রভাবশালী নেতা। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই খবরটি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে অনেকেই এই ভুয়া খবরটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছিলেন।
তবে ধোঁয়াশা কাটিয়ে দ্রুতই আসল সত্য সামনে এসেছে। আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিশ্চিত করেছে যে, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। তার ওপর কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি এবং মৃত্যুর খবরটি ছিল আগাগোড়া সাজানো একটি গুজব। মূলত জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরির উদ্দেশ্যেই এমন ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি তার স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন এবং তার অবস্থান নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই।
যেকোনো অস্থিতিশীল সময়ে এমন স্পর্শকাতর তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস না করার জন্য সংশ্লিষ্টরা আহ্বান জানিয়েছেন। ডিজিটাল যুগে ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের অন্যতম হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে অপপ্রচার বা প্রোপাগান্ডা। আহমাদিনেজাদকে ঘিরে এই ভুয়া খবরটি তারই একটি বড় প্রমাণ। আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন তোলা এই মৃত্যুর সংবাদটি শেষ পর্যন্ত কেবল একটি গুজব হিসেবেই প্রমাণিত হলো, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না।